Breaking News

শিশুকে বইপ্রেমী করবেন যেভাবে

জীবনের প্রকৃত বন্ধু বই। জ্ঞান অন্বেষণের পাশাপাশি মানুষকে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতেও সাহায্য করে বই। বই এমন এক জিনিস, যা মানুষকে হাসায়, কাঁদায় আবার আনন্দও দেয়। মানসিক অবসাদে ভুগলেও বই হতে পারে আপনার প্রিয় বন্ধু।

ইদানীং প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বই থেকে। সেই তালিকায় আছে শিশুরাও। পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বইগুলো পড়লে শিশুর জ্ঞানের ভাণ্ডার যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনই তার কল্পনাশক্তিও বিকশিত হবে। স্মার্টফোন, কার্টুন আর মোবাইল গেমের কারণে অনেক শিশুর মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে যেতে বসেছে। আর দেরি না করে ছোট থেকেই আপনার সন্তানকে করে তুলুন বইপ্রেমী।

চলুন দেখে নেয়া যাক, কীভাবে গড়ে তুলবেন বই পড়ার অভ্যাস- বড়রা যা করে শিশুরা তাই দেখে শেখে। সারাদিনে একটি নির্দিষ্ট সময় বই পড়ার জন্য বরাদ্দ করুন। আপনাকে বই পড়তে দেখে আপনার সন্তানও বই পড়তে উৎসাহিত হবে।

শিশু খুব ছোট হলে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে গল্পের বইটি মজার ছলে পড়ে শোনান। ছোট থেকেই সেই অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে বয়স বাড়ার সঙ্গে তার বইয়ের প্রতি আসক্তিও বাড়বে। অনেক সময় শিশুরা বই পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, কারণ বইগুলো তাদের বয়স উপযোগী হয় না। তাই কোন বইটি তাদের পক্ষে উপযোগী সেটা আপনাকেই বাছাই করতে হবে।

শিশুর বয়স যদি চার-পাঁচ বছরের নিচে হয় তা হলে এমন বই কিনুন, যেখানে একটি পৃষ্ঠায় তিন-চার লাইন করে থাকে। ছোট শিশুদের জন্য রঙিন বই কিনুন। বইতে অনেক ছবি থাকলে ভাল হয়, তাতে তাদের কল্পনা শক্তি বাড়বে।

শিশুরা বয়সের সঙ্গে আশপাশের সব কিছু নিয়ে জানতে চায়। তার চোখে থাকে রাজ্যের বিস্ময়, মনে থাকে হাজার রকমের প্রশ্ন। তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দিতে হবে। আপনি তার এই উৎসুক মনের সাহায্য নিয়েই তার সঙ্গে বইয়ের সম্পর্ক জুড়ে দিতে পারেন খুব ছোট বয়সেই!

আপনার ক্ষুদে যদি একই গল্প বার বার শুনতে চায়, তা হলে তাকে বাঁধা দেবেন না। এই পন্থায় তাদের স্মৃতিশক্তি বাড়বে। এতে তাদের শব্দ মুখস্থ করতে সুবিধা হবে, তাদের শব্দভাণ্ডার বাড়বে। খানিকটা গল্প বলে বাকিটা তাদেরকেই বলতে বলুন। দেখবেন তাদের গল্প শোনার ও পড়ার অভ্যাস দুই-ই বাড়বে।

আপনি যখন লাইব্রেরিতে যাচ্ছেন, তখন আপনার শিশুকেও সেখানে নিয়ে যান। বিভিন্ন প্রকার বইয়ের সঙ্গে তাদের পরিচয় করান। কেবল গল্পের বই নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক বইও তাদের বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে পারে।

একটা সময় ছিল যখন জন্মদিনে বই উপহার দেয়ার চল ছিল। শিশুর জন্মদিনে বেশির ভাগ অভিভাবক এখন খেলনা উপহার দিয়ে থাকেন। তবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে ছোটবেলায় শিশুর জন্মদিনে বই উপহার দিন। এতে করে আপনার সন্তানও বুঝবে যে বই কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন আপনি এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যেও বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবে। সূত্র- আনন্দবাজার অনলাইন

About admin

Check Also

ফ্যাক্টরিতে কিভাবে পরিশোধিত করে খাটি সোনা তৈরি করা হয়, আর কেনেই বা কেউ সোনার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে চায়না।

নিজস্ব প্রতিবেদন: পৃথিবীতে সবচাইতে দামি পদার্থ গুলির মধ্যে একটি স্বর্ণ। স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যারা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *