Breaking News

বাড়লো তেলের দাম, এক মাসে ৩ বার বেড়ে করলো ‘হ্যাট্রিক’

ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা মানছেন না সরকারের নির্দেশ। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও তা রক্ষা করা হয়নি। লঙ্ঘন করা হয়েছে দফায় দফায়। নানা কৌশলে ব্যবসায়ীরা ৬ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি

পর্যন্ত এক মাসে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছেন চার দফা। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের ক্রেতাকে নিরুপায় হয়ে গুনতে হয়েছে বাড়তি অর্থ। এদিকে ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী। সবমিলিয়ে ক্রেতার নাভিশ্বাস অবস্থা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব

বাংলাদেশের (টিসিবি) বৃহস্পতিবারের পণ্য মূল্য তালিকা লক্ষ্য করে দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ লিটারের সয়াবিন ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। চুপিসারে বৃহস্পতিবার এ দাম বাড়ানো হয়। প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম অয়েল খোলা ১ দশমিক

৫১ ও সুপার ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের বারণ করা হয়েছিল। প্রথমবার ৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু তার

পরদিন অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি ভোজ্যতেল সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ১৯ জানুয়ারি বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তেলের দাম বাড়ানো যাবে না। কিন্তু এর পরদিনই লিটারে বাড়ানো হয় ৫ টাকা। তৃতীয় দফায় ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর খুচরা বাজারে লিটারে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সর্বশেষ ৩ ফেব্রুয়ারি ভোজ্যতেলের দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়। এখন খুচরা বাজারে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-৮০০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৭৬৫-৮০০ টাকা। রাজধানীর বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। যা এক মাস আগে ছিল ১৩৮-১৪২ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন

প্রতিলিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৬৮ টাকা। যা এক মাস আগে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-৮০০ টাকা। যা এক মাস আগে ছিল ৭০০-৭৫০ টাকা। পাম অয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ১৩৫ টাকা। এছাড়া খোলা পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ১৩৬ টাকা। যা এক মাস আগে ছিল ১৩০-১৩২ টাকা। দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে নয়াবাজারের মুদি দোকানদার তুহিন বলেন,

সরকারের পক্ষ থেকে দাম না বাড়াতে নির্দেশ থাকলেও পাইকার ও বড় কোম্পানিরা দফায় দফায় তেলের দাম বাড়াচ্ছে। বেশি দরে কিনে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু যত অভিযান খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চালানো হচ্ছে। পাইকার ও বড় কোম্পানিদের কেউ ধরছে না। জানতে চাইলে পাইকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য বিক্রেতাদের সংগঠন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে দামের সমন্বয় করতে হচ্ছে। যে কারণে তেলের দাম বাড়তি।

বিশ্ববাজারে দাম কমলে অবশ্যই দেশের বাজারেও কমবে। কিন্তু কিছু হলেই আমাদের ওপর অভিযোগ করা হয়। দেখতে হবে দেশে আসলে জনসংখ্যা কত। আর এ জনসংখ্যার আসল চাহিদা কত।
দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে, আগের হিসাবে চাহিদার চিত্র বলা যাবে না। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হচ্ছে। তাই সরবরাহ নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। সবকিছুর আসল রোডম্যাপ

তৈরি করতে হবে। তখন বোঝা যাবে দাম বাড়ার পেছনে সমস্যা কোথায়। রাজধানীর খুচরা বাজারে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রতিকেজি ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১১৫-১২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১১০-১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি দানার মসুরডাল প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ১০৫-১১০ টাকা। যা এক মাস আগে ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০০ টাকা। যা এক মাস আগে ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

About admin

Check Also

অন্ধত্ব হয়েও জিপিএ ফাইভ পেলেন হরিবল

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অন্ধত্বকে পিছনে ফেলে জিপিএ ফাইভ পেলেন মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র হরিবল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *