Breaking News

চঞ্চল সন্তানকে শান্ত করবেন কীভাবে?

শিশুরা একটু চঞ্চল স্বভাবের হয়েই থাকে। তবে কিছু বাচ্চা রয়েছে যাদের চঞ্চলতা সামাল দিতে হতে হয় নাজেহাল। তার ওপর সন্তান যদি হাইপারঅ্যাক্টিভ অর্থাৎ অতিরিক্ত চঞ্চল হয়, তা হলে প্রতিদিন ছোটখাটো ঝড় মোকাবেলাতেই সময় কাটবে অভিভাবকদের।

অতিরিক্ত চঞ্চল শিশুদের মস্তিষ্ক সব সময় ব্যস্ত করে রাখে। এক কথায় স্থির থাকতে দেয় না। এ ধরনের শিশুরা একটি স্থানে কয়েক মিনিটের চেয়ে বেশি টিকতে পারে না। আবার দেখতে দেখতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়ে বসবে, যা আপনার পক্ষে আটকানো মুশকিল। মুহূর্তের মধ্যে দুষ্টুমি করে পগারপার হয়ে যায় এরা।

তবে এদের শান্ত করা অসম্ভব না। আর এজন্য অবলম্বন করতে হবে কিছু পন্থা।

এ ধরনের শিশুদের এমন কিছু কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রাখুন যাতে তাদের শারীরিক শক্তি সঠিক পথে সঞ্চালিত হতে পারে। নাচ, গান, দৌড়ঝাঁপ, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত করুন। নিউরোবিক্স বা মেন্টাল অ্যারোবিক্স মস্তিষ্ককে উৎসাহিত করে, মনোযোগ বৃদ্ধি করতে ও অধিক সতর্ক করতে সাহায্য করবে। বল বাউন্স করানো, বোর্ড গেমস, ধাঁধা সমাধান করানোর মতো খেলা তাদের শক্তিকে সঠিক পথে চালনা করবে।

বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধানে আজকাল মিউজিক থেরাপির ব্যবহার বেশ বেড়েছে। বাচ্চাদের অতিরিক্ত চঞ্চল মনকে শান্ত করার জন্য হাল্কা, মেডিটেটিভ অথবা ক্লাসিকাল সঙ্গীত শোনাতে পারেন। এ ধরনের সঙ্গীত চঞ্চল মস্তিষ্ককে শান্ত করে। তবে হেভি মেটাল বা হার্ড রক মিউজিক শোনাবেন না। বাচ্চাদের ওপর এর বিপরীত প্রভাব পড়বে। আবার কোনও মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্টের প্রতি সন্তানের ঝোঁক থাকলে, তা শেখাতে পারেন।

টিভি, প্লে স্টেশান, ভিডিও গেম, মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার হাইপার অ্যাক্টিভিটি বাড়িয়ে দিতে পারে। কার্টুন ও ভিডিও গেমসে উত্তেজনা, তীব্র শব্দ, গাঢ় রঙ ব্যবহার করা হয়। এগুলো বাচ্চাদের আচরণকে প্রভাবিত করে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। এর ফলে তাদের হাইপার অ্যাক্টিভিটি বৃদ্ধি পায়। তাই গেজেটের ব্যবহার সীমিত করে তাদের প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে উদ্বুদ্ধ করুন। এর ফলে তাদর মন শান্ত হবে।

খাদ্যাভ্যাসও তাদের স্বভাবকে প্রভাবিত করে। বাচ্চাদের খাওয়া-দাওয়ার ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষ করে দুপুর ও রাতের খাবার মস্তিষ্ককে সরাসরি প্রভাবিত করে। অধিক শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে তাদের চঞ্চলতা বৃদ্ধি পায়। এয়ারেটেড ড্রিঙ্কস, জাঙ্ক ফুড, পিৎজা-বার্গারস আইসক্রিম যথাসম্ভব কম খাওয়ানো উচিৎ।

মোলায়েম শারীরিক স্পর্শ ও ভালোবাসাপূর্ণ শব্দ এন্ডোর্ফিন্সকে উত্তেজিত করার কার্যকরী উপায়। হাইপার অ্যাক্টিভ সন্তানকে শান্ত করার জন্য তাদের ভালোবেসে ডাক দিন, তাদের মাথা, চোখ, হাত, পা ও পিঠে হাল্কা ম্যাসাজ করুন। এর ফলে তারা স্বস্তি পাবে ও আনন্দ অনুভব করবে।

About admin

Check Also

গলায় কালচে দাগ পড়লে এটা কীসের লক্ষণ?

গলায় কালচে দাগ অনেকই স্বাভাবিকভাবে নেন। ভাবেন শরীরের ময়লা। তবে গলায় এসব কালচে দাগ দেখলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *